বেজিং: ভয়াবহ ভূকম্পের পর কেটে গিয়েছে ২৪ ঘণ্টা। কনকনে ঠাণ্ডার মধ্যে তিব্বতের উঁচু এলাকায় তল্লাশি চালাতে গিয়ে প্রতিপদে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে উদ্ধারকারী দল। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কেউ আটকে নেই তো? সেই খোঁজ করতে গিয়ে চাঙড় সরাতেই একের পর এক নিথর দেহ বেরিয়ে আসছে। সর্বত্রই স্বজনহারাদের কান্নার রোল। তবে সিংহভাগ বাসিন্দাকেই অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সরকারি হিসেবে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা ১২৬। জখম হয়েছেন কয়েকশো মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বেসরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি। ভূমিকম্পে ৩ হাজার ৬০০ বাড়ি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। প্রাথমিক হিসেব বলছে, ৩০ হাজার মানুষ গৃহহারা। তাঁদের অন্যত্র সরানো হয়েছে। বুধবারও তাঁদের একাংশের চোখে আতঙ্কের চাপ। শীতের থাবা থেকে বাঁচাতে তাঁবু, কম্বল ও অন্য ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তিব্বতের গুরুম গ্রামে বাসিন্দার সংখ্যা ২২২। তাঁদের মধ্যে কমপক্ষে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গ্রামের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান শেরিং ফুন্টসোগ জানিয়েছেন, কম্পনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে কমবয়সিরাও ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। আমার ৭৪ বছরের বৃদ্ধা মা ও পরিবারের আরও কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের তলাতেই চাপা পড়ে গিয়েছে। তাঁদের আর জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রক জানিয়েছে, দমকল সহ বিভিন্ন দপ্তরের ১ হাজার ৮৫০ জন উদ্ধারকারী কাজ করছেন। মূল কম্পনের পর প্রায় ৫০০ বার আফটার শকে কেঁপে উঠেছে পবিত্র শহর শিগাজে এবং আশপাশের সব জনপদ। ভূমিকম্প এবং আফটারশকের প্রভাব এতটাই ছিল যে কম্পন অনুভূত হয় নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ, এমনকী ভারতেও।

